Home / Bangla Post / কিভাবে বুঝবেন আপনি অজানা রোগে ভুগছেন

কিভাবে বুঝবেন আপনি অজানা রোগে ভুগছেন

বিশ্বব্যপী প্রায় ৪ জনের ১ জন মানুষ কোন ধরনের মানসিক রোগে ভুগছে এর মধ্যে রয়েছে বিষন্নতা, উদ্বেগ, ব্যক্তিত্ব ও অনুভূতির রোগ। দুভার্গ্যবশত, এর মধ্যে শুধুমাত্র ৪০˗৬৫% মানুষ প্রকৃত অর্থে মানসিক সুস্থ্যতার চিকিৎসা নিচ্ছে যাদের মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গ রয়েছে।শতকরা এত কম ভাগ মানুষের চিকিৎসা নেয় এর কারন হল তারা মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্বসহকারে নেয় না। যখন কারো সর্দি এবং কাশি হয়, তারা পারিবারিক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য যায়। তারা পেশা বা স্কুল থেকে ছুটি নেয় এবং বিছানায় শুয়ে সিনেমা দেখে, তাদের শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য বিশ্রাম নিতে থাকে। শতবছর ধরে মানুষ এটা বোঝে যে, এটাই তাই যা শরীরের ভাইরাস বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন।যখন মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসার বিষয় আসে যেভাবেই হোক বেশিরভাগ মানুষ কিভাবে চিকিৎসা নিতে হবে এবং অবশ্যই, কখন তা প্রয়োজন এই বিষয়ে অজ্ঞ থাকে।

সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মানসিক রোগের উপসর্গসমূহের মধ্যে দেখা যায় বিভিন্ন মাত্রার তীব্র অনুভূতিসমূহ, দুঃখের পর্ব, অতি উৎফুল্ল আচরনের পর্ব এবং আরো অনেক কিছু। সবাই অবশ্যই দুখের এবং অতিমাত্রার অনুভূতিসমূহের মধ্যে দিয়ে যায়˗এটা মানুষেন আচরনের প্রাকৃতিক অংশ। সমস্যাটা হল মানুষের স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিকের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারা।গবেষনা বলে যে, যখন মানসিক স্বাস্থ্যের সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হয় তখন শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা কমে যায়। উদাহরনস্বরুপ, একটা গবেষনাতে দেখা গেছে যে যারা মানসিক রোগের চিকিৎসা করছে না তারা সুস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন মানুষের চেয়ে দ্বিগুন বেশিবার ডাক্তারের কাছে যায়। আরেকটা গবেষনায় দেখা গেছে, যেসব মানুষ উদ্বেগজনিত রোগে ভুগছে মানসিক চিকিৎসার পর তাদের হাসপাতালে যাওয়া ৯০% কমে যায়।চিকিৎসাহীন ভাবে থাকলে উদ্বেগজনিত রোগ এবং অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্যের রোগ হৃদযন্ত্রের রোগ, আলসার তৈরি করতে পারে এবং শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। অন্যদিকে ভাল মানসিক স্বাস্থ্য একজন মানুষের সুস্থ্য সম্পর্ক রক্ষার ক্ষমতা, জীবনের ভাল স্বিদ্ধান্ত নেয়া, জীবনের স্বাভাবিক উঠা নামা সামলানো, মানুষকে জীবনের সর্বোচ্চ অবস্থা পর্যন্ত বেড়ে উঠার বিষয়ে শক্তিশালী করে তোলে ˗এবং অবশ্যই তাদের ভাল শারীরিক স্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

এখনো মানসিক সুস্থ্যতার চিকিৎসার ব্যপারে বা অন্য ভাবে বললে থেরাপির ক্ষেত্রে অনেকের সামাজিক নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কিন্তু কেউই যেমন তাদের পারিবারিক ডাক্তারের কাছে শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেতে লজ্জিত হয় না, কারো মনোবিজ্ঞানী বা কাউন্সেলরের/চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর কাছে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কিত সাহায্য নেয়াতেও লজ্জিত হওয়া উচিত নয়।কিন্তু কিভাবে আপনি বুঝবেন কখন আপনাকে মানসিক সুস্থ্যতার চিকিৎসা নিতে হবে? কিভাবে আপনি ভাসমান অনুভূতি এবং একটা সত্যিকার মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয় আলাদা করতে পারবেন? আপনার নিজেকে নি¤েœাক্ত প্রশ্নগুলো করা জরুরী:জীবনের উঠা নামার অভিজ্ঞতা সবার জন্য স্বাভাবিক, উপরে যেমন আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, আপনার নিজেকে যা জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন তা হল, আপনার ঐ উঠানামাগুলো কেমন তীব্র এবং প্রায়ই কি আপনি তা অনুভব করেন?যদি আপনি অনুভূতির দ্বারা পুরোপুরি বন্দী মনে করেন˗ তা হোক রাগ, দুখবোধ বা এমনকি খুশীর ও যদি তীব্র বহিঃ প্রকাশ ঘটে তাহলে এর পেছনে একটা আভ্যন্তরীন বিষয় থাকতে পারে। যখন কিছু অপ্রত্যাশিত এবং চ্যালেঞ্জিং কিছু ঘটে আপনি কি প্রথমেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থার কথা চিন্তা করেন?যদি তাই হয়, তাহলে আপনি হয়তো উদ্বেগ বা অনুভূতির রোগে ভুগছেন।এইসব তীব্র অনুভূতিবোধ কি আপনাকে আপনার প্রত্যাশিত জীবন যাপনে পিছিয়ে দিচ্ছে? আপনি কি প্রায়ই দঃুখবোধ বা উদ্বেগের কারনে কর্মপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন বা বন্ধুদের সাথে সামাজিকতা এড়িয়ে চলেন? প্রায়ই খাবার খান না? যদি আপনার অনুভূতিগুলো আপনার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে মানসিক সুস্থ্যতার চিকিৎসা আপনাকে আপনার জীবনপথে ফিরিয়ে আনতে এবং সঠিক নির্দেশনায় চলতে সাহায্য করবে।

কষ্টকর ঘটনার উদাহরন হল প্রিয়জনের মৃত্য, সঙ্গীর সাথে বিচ্ছেদ বা চাকরি হারানো যেসব ক্ষেত্রে কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হয়। সবার এই বিষয়গুলো থেকে সেরে উঠতে সময় লাগে, কিন্তু যখন এর বারবার আপনার মনে ঘুরপাক খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না, বিষন্নতার পর্যায়ে চলে যাওয়া ঠেকাতে পারেন না এটা বিষন্নতার উপসর্গ নামে পরিচিত এবং যদি চিকিৎসা না করা হয় সহজেই তা তীব্র বিষন্নতা রোগে রুপ নিতে পারে ।কিছু ক্ষেত্রে যারা কষ্টকর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রভাবিত তারা সহজেই অতিউৎফুল্লতাপ্রবন আচরন করেন˗ বন্ধুদের সাথে বেশি মেশা, ঘুমহীনতা বা উদ্দেশ্যহীন/অপ্রয়োজনীয় খরচ করা বা পার্টি/উৎসবে মেতে থাকা হল সর্তক সংকেত যে ব্যক্তি তার পরিস্থিতিটা আরোগ্য উপযোগীভাবে মোকাবেলা করছে না এবং মানসিক সুস্থ্যতার চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়সমূহ যার চিকিৎসা করা হয়নি বিশেষত সমাধান করা হয় নি এমন চাপ বা উদ্বেগ অনেক সময়ই শারীরিক বিভিন্ন উপসর্গ তৈরি করে যেমন প্রতিদিন মাথাব্যথা, পেট খারাপ, প্রায়ই ঠান্ডা লাগা বা ফ্লু হওয়া, ঘাড়ে ব্যথা, যৌন চাহিদা কমে যাওয়া এবং অন্যান্য। কিছু ক্ষেত্রে এই উপসর্গসমূহ অন্যান্য রোগের উপসর্গসমূহের মতই হয়ে থাকে তাই আপনার ডাক্তারের সাথে যেকোন উপসর্গের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা খুব জরুরী।

যদি আপনি প্রায়ই ‘কষ্ট কমানোর জন্য’ মদ বা ঔষধ/মাদকদ্রব্য খোজেন বা প্রায়ই বা বেশি পরিমানে মদ্যপান করেন তাহলে আপনি শুধু মাত্র সমস্যা মোকাবেলার চেয়ে সমস্যা ঢাকছেনই না বরং নিজেকে আরো বেশি আসক্তির ঝুকিতে ফেলছেন।গবেষনায় প্রমানিত হয়েছে যে, এইভাবে নিজে নিজে ঔষধ খাওয়া ১২% গবেষনা অংশগ্রহনকারীদের উদ্বেগজনিত রোগের দিকে নেয়ার মাধ্যমে আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।যদি আপনি সব ধরনের ‘সঠিক মাধ্যমে’ চেষ্টা করেছেন যেমন বেশি ব্যায়াম করা, আতœসহায়তাকারী বই, বন্ধু এবং পরিবারের সাথে নিজের অনুভূতি বিষয়ে কথা বলা এবং অনলাইনে সহায়তা দলের খোজ করা ˗এবং আপনি এখনো একইরকম বোধ করেন ˗এটা একটা সংকেত যে, আপনার পেশাদার/বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলর বা থেরাপিষ্টের সহায়তা দরকার।যখন আপনার মানসিক অবস্থা স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে অনুমানযোগ্য হয়ে যায়˗অনেক দিন অসুস্থ থাকা, সময়মতো কিছু শেষ করতে না পারা, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া˗ তখন আপনার পেশাদারদের/বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সহায়তা দরকার। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে বা কøাস থেকে বাদ পড়তে পারেন যা শেষে আপনার বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্যকে আরো খারাপ করে তুলবে এবং সবকিছুকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।

আপনি গাছের নিচে শুয়ে আপনার প্রিয় বই পড়তে, আপনার বন্ধুদের সাথে বৃহস্পতিবার যোগব্যায়ামের ক্লাসে দেখা করতে বা সাপ্তাহিক ছুটিতে বাইরে নাচতে পছন্দ করতেন। কিন্তু এখন আপনি মনে করেন যে এই কার্যক্রমগুলো তাদের আকর্ষন হারিয়েছে এবং আপনি নিজেকে বেশি বেশি বাসায় একা, টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে থাকতে বা নেতিবাচক চিন্তারত অবস্থায় দেখেন।যারা মানসিক রোগে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে‘বাইরের জগতে’র সাথে বিচ্ছিন্ন বোধ করা খুব স¦াভাবিক ।যদি আপনি নিজের সম্পর্কে দুখবোধ করে থাকেন, আপনি সম্ভবত নিজেকে বোঝাবেন যে অন্যরাও একইরকম কোধ করে। আপনি হয়তো ভাববেন যে, মানুষ আপনাকে আক্রমন করছে যা আসলে তার করছে না। আপনি হয়তো প্রতিরোধপ্রবন হয়ে উঠবেন কারন আপনি হয়তো আপনার আসল অনুভূতিগুলো এবং কেন হচ্ছে তা ধরতে পারছেন না, এটা কাছের মানুষের কাছে প্রকাশ করা কঠিন হতে পারে এবং আপনি আপনার এবং কাছের অন্যান্য সবার মধ্যে হয়তো একটা দেয়ালের অস্বিত্ব অনুভব করতে শুরু করেন।আপনি সম্পর্কগুলো হারানোর আগে পেশাদার সাহায্য নিন। কিছু ক্ষেত্রে এসব মানুষকে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, কিন্তু আপনার থেরাপিষ্ট বা কাউন্সেলর আপনাকে এই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবে যে কখন এটা দরকার এবং এর জন্য সর্বোত্তম, সময় কোনটা। যেকোন সম্পর্কে ˗বন্ধু, পরিবার, প্রেম˗মানসিকভাবে সহজলভ্য হবার জন্য আগে নিজের ভেতরে কি হচ্ছে তা বুঝতে হবে।

আপনি ভেতর থেকে পরিস্থিতি বোঝার চাইতে প্রায়ই বাইরে থেকে আপনার কাছের মানুষদের এই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা সহজ সহজ। যদি আপনার কোন কাছের বন্ধু বা পরিবার আপনার আচরন নিয়ে প্রতিক্রিয়া করে থাকে বা আপনি আপনার এই অনুভূতিগুলো নিয়ে কারো সাথে কথা বলেছেন কি না তা জিজ্ঞেস করে থাকে, তা মাথায় রাখবেন। এই বিষয়ে সৎ হওয়া এবং এই পরিস্থিতি এমনভাবে মোকাবেলা করা যা আপনাকে আরো খারাপ অনুভূতি দেবে না বা আপনাকে কষ্ট দেবে না এমনভাবে এগোনো অনেকের জন্যই খুব কঠিন। কাজেই যদি তারা এই ব্যপারে আপনার সাথে কথা বলার সময় বের করে এই সম্ভাবনা খুব বেশি যে, আপনার তাদের পরামর্শ নেয়া উচিত এবং বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলা উচিত।মানসিক রোগসম্পর্কিত সামাজিক নেতিবাচক ধারনার বিপরীতে মানসিক সুস্থ্যতার জন্য সাহায্য খোজা আপনাকে দুর্বল প্রমান করে না। যে কেউ যারা বিষন্নতায়, উদ্বেগে বা অনুভূতিজনিত রোগে ভুগছে তারা বুঝবে যে, আপনি ‘তুড়ির মাধ্যমে এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না’ যা অনেক মানুষ আপনাকে বলার চেষ্টা করেছে। আপনি যতই নিজেকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন না কেন মানসিক রোগসমূহ পুরোপুরি অবশ/অক্ষম করে দেয়ার মত হতে পারে।আপনি যদি উপরোক্ত যেকোন পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মেলাতে পারেন তাহলে আপনার একজন কাউন্সেলরের/ চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীর সাথে অতি দ্রুতই কথা বলা দরকার। যত দ্রুত আপনি এই রোগসমূহের উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহন করবেন ততদ্রুতই আপনি আপনার প্রত্যাশিত এবং উপযুক্ত জীবন যাপনে ফিরে যেতে পারবেন। আপনার আরোগ্য এবং ব্যক্তিগত স্বয়ংসম্পূর্নতার পথে যাত্রা শুরু করতে আজই আমাদের একজন কাউন্সেলর/ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্টের সাথে কথা বলুন।

About admin

Check Also

বিড়াল সম্পর্কে সব কিছু জানেন কি?

তুলতুলে আরামপ্রিয় প্রাণী মানেই বিড়াল। খুব কম মানুষ আছেন যারা বিড়াল ভালবাসেন না। নানা জাতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *